সোমবার, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) নুসরৎ জাহানকে তলব করেছিল একটি পুরোনো ফ্ল্যাট দুর্নীতি মামলায়। সেই অনুসারে বুধবার সকাল ১০টায় সিজিও কমপ্লেক্সে প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা জেরা করা হয় অভিনেত্রী ও প্রাক্তন সাংসদকে। এরপর থেকে নুসরতের নাম নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। তার বিরুদ্ধে একদিকে রেশন দুর্নীতি এবং অন্যদিকে ‘সেভেন সেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ সংস্থার আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি অতীতের বিয়ে নিয়ে বিতর্কও থামছে না।
এমন পরিস্থিতিতে, ইডি দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু ছবি শেয়ার করেন নুসরত। ট্যাঙ্ক টপ এবং শর্টসে তার নতুন ছবি নেট দুনিয়ায় শোরগোল ফেলে দেয়। তবে তার ছবি নিয়ে যত আলোচনা, তার চেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে নুসরতের ক্যাপশন নিয়ে। অভিনেত্রী লিখেছেন, “অভিযোগ আর অপবাদ- এই দুইয়ের মাঝামাঝি কোথাও শান্তি খুঁজে ফিরছি, যতক্ষণ না সত্যিটা খুঁজে পাই আমরা।” এর পর, নিন্দুকদের উদ্দেশ্যে সরাসরি মন্তব্যও করেছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “এসো নিন্দুকগণ, যা ইচ্ছে বলার বলে ফেলো।” এর মাধ্যমে নিজের বক্তব্য স্পষ্ট করেছেন নুসরত। বিতর্কের মুখে পড়লেও তিনি কখনোই মাথা নিচু করেননি। বরং, নিজের শর্তে বাঁচতে বিশ্বাস করেন। এমনকি, ট্রোল বা মিমের কথা মাথায় না রেখেই, নিজের জীবন ও মতামত নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে চলেন তিনি। এর মধ্যে তার বিরুদ্ধে যতই অভিযোগ উঠুক, তা যেন তাকে ভীত বা বিপর্যস্ত করতে পারে না।
এদিন, ইডি দপ্তরে নুসরতের হাজিরার সময় তার সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা যশ দাশগুপ্তও। সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় নুসরত জানান, “আপনারা খবর নিয়ে নিন”—এমনই একটি তীর্যক মন্তব্য করেন। এর থেকেই স্পষ্ট, তিনি কোনো প্রশ্নের সহজ উত্তর দিতে রাজি নন। জানা গেছে, ফ্ল্যাট দুর্নীতি মামলার প্রেক্ষিতে ইডি দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করছিল এবং সেদিন কিছু নতুন তথ্য হাতে এসেছে।
আরও পড়ুনঃ শেষ ক’টা মুহূর্ত কেমন কেটেছিল আশা ভোঁসলের? ঠাকুমার মৃ’ত্যুর সময়ের স্মৃতি, নাতি চিন্টু ভোঁসলে ভাগ করলেন প্রথমবার!
এখন প্রশ্ন উঠছে, রাজারহাটে যে ফ্ল্যাট প্রকল্পের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে নুসরত ছিলেন একটি সংস্থার অন্যতম পরিচালক। ইডি সূত্রে খবর, এই মামলার তদন্তে নতুন তথ্য হাতে আসার পরই তাকে আবার তলব করা হয়। আগেও এই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল, তবে এবার তার বিরুদ্ধে শক্ত প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি ইডি সূত্রের। সেদিনের মতো এবারও, নুসরত কোনো ধরনের মন্তব্য করার ক্ষেত্রে খুবই সতর্ক ছিলেন।
